হোয়াই এই হেইট কানাডা:

Akhlaqur Rahman Rahi 
যারা পড়শীর থেকে শুনে বিশ্বাস করেন আল্লামা সাহেবজাদা সাঈদী কে চান্দে দেখা গেছে তারা এই পোস্ট থেকে কয়েকশ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকুন। যারা নিজের বুদ্ধি, পরিসংখ্যান আর যুক্তিতে বিশ্বাস করেন তারা এই পোস্ট পড়া চালিয়ে যেতে পারেন।
কানাডা দেশটা আদতে কেমন তা জানতে আমরা দুই ধরনের ইনফরমেশন সোর্স সাধারণত ব্যবহার করে থাকি।
১. আত্মীয় স্বজন / বন্ধু বান্ধব যারা এখন কানাডায় আছেন
২. সোশ্যাল মিডিয়া / অনলাইন / নিউজ ইত্যাদি।

শতকরা ৯০% ভাগ আপনজন বন্ধুবান্ধব আপনাকে কানাডার কালো অধ্যায় সম্পর্কে বলবে না। এর দুইটা কারণ, এক: এরা বেহেশতে আছে এইটা প্রমাণ করতে চায়, দুই: এরা আশি বা নব্বইয়ের দশকে দেশ ছেড়েছে বিধায় এদের মাথায় এখনো ঢাকা মানে মিশুকের কালো ধুঁয়ার কুন্ডলী ভাসে। দেশ যে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে এটা হয় বিশ্বাস করতে চায় না নতুবা দেখেও দেখে না!
স্যোসাল মিডিয়া বা অনলাইনে দুই ধরনের নিউজই বের হয়। কখনো তা বাস্তবতার আয়না, আবার কখনো কখনো তা কালের কণ্ঠের মতো ধূর্ত!
এবার আসেন কেন এই মুহূর্র্তে আমার মেজাজ বিগড়ে আছে তা নিয়ে আলোচনা করি। এই আলোচনা শেষে কোনো তবারক নেই, তবারক মানে শিরনি, সো যারা মেহফিলে শির্নীর আশায় যোগদান করেছেন তাদের জন্য গুড়েবালি 😞
কানাডা মাইগ্রেট করার অন্যতম কারণ পরবর্র্তী প্রজন্মকে একটি সিকিউরড লাইফ দেয়া যেখানে থাকবে সামাজিক নিরাপত্তা, উন্নত শিক্ষা আর মেধা মনন চর্চার আঁতুরঘর।
কিন্তু মুহ্তারামে হাজিরিন....
একটা সময় ছিল যখন কানাডা আসলেই তাই ছিল, দিন প্লাটায় গেছে ভাই।
এখন চারিপাশে শুধু ধুয়া আর ধুয়া, একবার এক কানাডিয়ান এর লগে ঢাকায় দেখা, হালায় দেখি নাক মুখে রুমাল গুঁজে আছে আর কয় সিট কি ধোঁয়া, স্মোক স্মোক! ভাইটি নিশ্বাস নিতে পারতেসে না, ওরে এখন পাইলে কানপট্টির নিচে একটা চটকনা দিতাম!
হেরে আমি না আটকাইলে তো ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিতো...শালা এখানে আইসা তুই স্মোক স্মোক করস আর তোর দেশ তো স্মোকার কারখানা!
কারখানা? কি কোন মিয়া ভাই?
জি ভাই, কানাডায় প্রকাশ্য দিবালোকে গাঞ্জা সেবন এখন বৈধ! তাও আবার সংসদে বিল পাশ করে হালাল। আমার মতো আদম যে সিগারেটের গন্ধ সহ্য করতে পারে না তার জন্য গাঁজার গন্ধতো বিষ, বমি আসে।
গাজা লিগ্যাল হওয়ার আগেই চিপাচুপায় পোলাপান যেমনে গাজা আসর বসাতো, মহল্লার আশপাশের কয়েক বাড়ীর লোক পর্যন্ত বিষয়টা ঠাওর করতে পারতো। দুই দিন আগেই ফোন উঠাইয়া পুলিশে ফোন দিলে হেরা আইসা ব্যবস্থা নিতো আর এখন?
নো ওয়ে...
দেশে গাইনচোট্টি ছিল একটা গালি আর শালার কানাডায় এইটা এক উপাধি!
শুধুকি তাই? গাঞ্জা এখন আর কিনে খেতে হবে না! আপনি চাইলে আপনার বাসায় নির্দিষ্ট পরিমাণ গাজার গাছ লাগাতে পারবেন যা কিনা সংসদীয় ভাবে বৈধ! ইয়া খুদা, এই মুল্লুকের আকাশ বাতাস আশির দশকের ঢাকার চেয়েও কোনো অংশে খারাপ না 😞 এখনই বাচ্চা বাচ্চা পোলাপান স্কুল পলাইয়া গাঞ্জা টানে, লিকার চুমুক দেয়, সামনে যে কি আজাব অপেক্ষা করছে তা আল্লাহই মালুম!
গাঞ্জা টানার নূন্যতম বয়স আঠারো মানে আপ্নে আঠারো হলে আপনের বাপের সাধ্যি নাই আপনাকে আটকাবে, পরিনত বয়সে আপনি কি করবেন সেটা আপনার ব্যাপার কিন্তু গোপনে এই চর্র্চা যে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের গ্রাস করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
দেশে ইয়াবা না বাবা নিয়ে আপ্নে ভয়ে থাকেন, বাচ্চারে চোখে চোখে রাখেন আর এই দেশে ভয় গাঞ্জা নিয়ে! কিভাবে আপ্নের বাচ্চাকে এই ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাবেন? এই দেশে গাঞ্জা বিনোদনের খোঁড়াক কিন্তু আমাদের সমাজ কতটা তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত?
এই দেশে বলি আমরা রেইসিজম নাই, কসম দিয়া কৈলাম শুধু রেসিজম না রেসিজমের বাপ্ আছে এই দেশে!
আমাদের দেশে নৃগোষ্ঠীরা অনেক শান্তিতে আছে, বাঙালি আর পাহাড়িদের মধ্যে বিভেদ থাকলে সেটা কেউ কাওকে দমিয়ে রাখার মতো না। কানাডায় এবোরিজিনালদের (আদিবাসী) এক ঘরে করে রাখা হয়েছে। এদের জন্য আলাদা রিজার্ভ ঘোষণা করে সেখানেই রিজার্ভার আদলে আদতে জিওগ্রাফিক্যালি বেস্টনী দিয়ে আগলে রাখা হয়েছে যাতে তারা কানাডার মূল ধারার সাথে মিশতে না পারে। একটা সময়ত এদের নির্মূল করার জন্য বাচ্চাদের কেঁড়ে নেয়া হতো। খুব বেশি পড়া শোনা করা লাগবে না, কানাডিয়ান এবোরিজিনাল ক্লিন্সিং দিয়ে একটা বেসিক গুগল সার্চ করুন, প্রমান পেয়ে যাবেন!
কুইবেকে এই সপ্তাহে স্থানীয় নির্বাচনে রাইট উইং জিতলো, ট্রুডো সাহেবের লিবারেল পার্টি বিএনপির মতো বেইজ্জ্যাতি হারা হারছে। রাইট উইং জিতার সাথে সাথেই ঘোষণা দিলো অনতিবলম্বে প্রভিন্সে ধর্ম্মীয় পর্দা অবৈধ ঘোষনা করা হবে হবে। সোজা কথা মুসলমানদের টুপি, নিকাব, হিজাব আর ইহুদিদের স্পেশাল টুপি ইত্যাদি পড়া আইনত দন্ডনীয় হতে যাচ্ছে!
হোয়াট দ্যা ফিস?
ইজ ইট লিবারেল কানাডা? নো ওয়ে...
দেশে একটা সময় ছিটমহল ছিল, এই এক অদ্ভুত ব্যাপার, দেশের মইধ্যে দেশ! এখানে দেখি তাই!
কুইবেকে কেউ আসলে আপ্নে যদি তিন বছরের মধ্যে ফ্রেঞ্চ না শিখেন তাইলে নাকি খেদাইয়া দিবে বলে আইন করবে! ইয়া মাবুদ, এখন যদি আপ্নে চিটাগাং গিয়া থাকা শুরু করে আর মেয়র মহিউদ্দিন কয় ভাউ চট্টলা আইসো বালা কথা, তিন বছরের মধ্যে চাটগাইয়া কথা কইতে পারলে কয়লাম খেদাই দিমু!
কেমন লাগবে কন তো?
আর শোনেন, ট্রুডোর অবস্থা বিএনপির মতোই নড়বড়ে। প্রায় বেশিরভাগ প্রভিন্সের স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবি হৈয়াছে। বেশিরভাগ সার্ভের রিপোর্র্টেই ট্রুডোর জনপ্রিয়তা কোনঠাসা প্রকাশ পাচ্ছে। এবার যদি আবার কনজারভেটিভ আসে তাইলে খবরই আছে! হেরা যখন আগে ছিল তখন ইমিগ্রান্টদের আইন করে দ্বিতীয় সারির সিটিজেন ঘোষণা করেছিল!
এই রিপিট সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন! যেই সিটিজেনশিপ কেড়ে নেয়ার অধিকার সরকারের আছে! সিটিজেনশিপ কেড়ে নেয়া? আর ইউ কিডিং?
নোপ্ ব্রাদার ইট ওয়াজ এ "ল" ইন সো কোল্ড গ্রেট কানাডা! এবার যদি আবার ডেমোক্রেটিক আসে (সম্ভাবনা খুব বেশি, ট্রুডো কোন ঠাসা) তাইলে কপালে কি আছে আল্লাহ মালুম!
দেশটায় বেড়াছেড়া লেগে আছে ভ্রাতা....
উপরের গল্পগুলো জর্জ মিয়ার মতো আষাঢ়ে গল্প নয়। একটু অনলাইনে ঘাটাঘাটি করলে সত্যতা জানতে পারবেন।
আমার উপর নাখোশ হয়ে লাভ নাই মিয়া ভাই!
লেঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড, বিফোর ইউ কাম, নো দ্যা ট্রুথ!
কালচারাল শক খাওয়ার আগে হজম করে আসাই উত্তম!
ইমিগ্রেশন যাত্রা শুভ হউক।
যাযাকাল্লাহ খাইরান.....

No comments:

Post a Comment